আমরা চার ভাই। আমাদের বড় ভাই প্রায় ১৩ বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কখনো মা-বাবার প্রতি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। একটা পয়সাও দেননি—এমনকি ফোন করে খোঁজখবর নেয়া তো দূরের কথা, কথাও বলেন না।
তারপরে বোরহান ভাই ঢাকায় ব্যবসা করে, কিন্তু সে-ও বাড়ির প্রতি উদাসীন। কিস্তির লোনের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজেই ঠিকভাবে চলতে পারেন না—পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ তো তার কথায়
ব্যবসায় কিছু লস হয়েছে বলে সে এখনো ঋণের বোঝা টানছে।
এই ঈদে হঠাৎ বোরহান ভাই কিছু টাকা পাঠিয়েছে। তখন আমার মনে হলো, এই ঈদটা অন্তত তাদের টাকায় কেটে যাবে। অথচ আমার নিজস্ব বেতন এখনও পাইনি, বস বলেছেন ১৫ তারিখে দিবেন। আমি সারা বছর প্রতি মাসে মা-বাবার জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠাই, কোন মাস বাদ যায় না। এই কুরবানির ঈদে আমি প্রথমবার পারিনি শুধু বেতন না পাওয়ার কারণে।
আমার মা ঈদের দিন আমাকে একবারও ফোন করেনি। আমি সেদিন ১৭ বার ফোন করেছি, ধরেননি। আজও ৪ বার ফোন করেছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। এই অবহেলাটা আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।
সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো, যখন আমি টাকা পাঠাই, তখন সেই টাকা থেকে বড় ভাইয়ের ঋণ শোধ করা হয়। আমি কোনোদিন কিছু বলিনি, তবু আজ আমি টাকা পাঠাইনি বলেই যদি আমার সঙ্গে কথা না বলা হয়, তবে সেটা সত্যিই কষ্টদায়ক।
হয়তো ঈদে কিছু দিতে পারিনি, তাই আমার অস্তিত্বই গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।
জানি না কেন, কিন্তু মনে হয়, দায়িত্বের ভারটুকু আমি একাই বইছি — আর ভালোবাসার ভাগটা যেন আমি কোথাও
পাচ্ছি না।

No comments:
Post a Comment