Tuesday, June 3, 2025

কোম্পানি থেকে নাজিম ভাইয়ের রহস্যময় বিদায়, কারও জানা নেই গন্তব্য!

 নাজিম ছোটবেলা থেকেই একটু অন্যরকম। গ্রাম থেকে কিস্তির টাকা তুলে শহরে কাজ করতে যেত, কিন্তু সেই টাকার কোন হিসেব-নিকেশ কারও কাছে কখনো দেয় না। পরিবারে তার খরচ কেমন, কীভাবে চলে—তা কেউ জানত না। সে শুধু বলত, “কিস্তি আছে, সব টাকা ওখানেই যায়।”

মা একদিন ফোনে জিজ্ঞেস করেছিল,

— "তুই টাকা দিয়ে কী করিস, নাজিম?"

উত্তরে কেবল হিসেব নয়, বরং ফিরত অশ্রাব্য গালাগালি।

মাঝেমধ্যে বাড়িতে ফিরে আসত, কিন্তু তার আচরণে কখনো মা বাবা আমাদের পরিবারের জন্য ভালোবাসা দেখা যেত না। রান্না পছন্দ না হলে থালাবাসন ছুঁড়ে ফেলত, ঘরে উত্তেজনার ঝড় বইয়ে দিত। মায়ের প্রতি অবহেলা, তাচ্ছিল্য যেন তার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মা কাঁদতেন। একদিন বললেন,

— "আমি মরে গেলেই ভালো, নাজিম যেন আমার মুখটা না দেখতে পারে। আমি চাই না ও আমার লাশ ছুঁতেই পারুক।”

বাবার সাথেও তার সম্পর্ক ছিল শীতল

বাবা চুপচাপ, মুখে কম বলেন, কিন্তু মনে অনেক কথা জমা থাকে। একদিন, ভরদুপুরে, সাহস করে নাজিমের কাছে হাত পেতেছিলেন—

 “নাজিম, একটু টাকার দরকার। দুই হাজার…পারলে দে।


নাজিম প্রথমে হাসল, তারপর বলল,

— আগামী মাসে কিস্তি আছে বাবা, হাতে এখন কিছুই নাই।

এরকম উত্তর সে আগেও বহুবার দিয়েছে। কিস্তি যেন তার জীবনের সবকিছু—সারা বছর কিস্তি, কিন্তু কোথাও কোনো আলো নেই।


বাবা একটু রাগ নিয়েই প্রশ্ন করলেন,

— তুই কিস্তির টাকা দিয়ে কী করিস? ফ্যামিলিতে তো কিছুই দিস না। সারা বছর শুনি কিস্তি কিস্তি, আর কিছু বুঝি না!


এই কথায় নাজিম মেজাজ হারায়। শুরু হয় গালাগালি, চিৎকার, অশ্রাব্য ভাষা। পরিবার যেন তার কাছে বোঝা। গাছের নিচে বসে থাকা বাবা শুধু চেয়ে থাকেন নাজিমের দিকে—একসময় যে ছেলেকে কোলে করে মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়িয়েছেন, আজ সেই মুখে বিষ।


এরপর কেটে যায় কয়েক মাস। হঠাৎ একদিন নাজিম বলে বসে,

— আমি সৌদি যাবো। চার লাখ টাকার দরকার। তুমি ম্যানেজ করে দাও।

বাবার চোখে অবিশ্বাস—

— “সারা বছর ঢাকা কাজ করলি, টাকা কী করলি? এখন আবার সব আমার কাছ থেকে নিবি?”


সেই কথাই ছিল শেষ—এরপর থেকে বাবা আর ছেলের মধ্যে কথা হয়নি। সম্পর্কের মাঝে জমে ওঠে দেয়াল, ঠান্ডা নিরবতা।


নাজিম এরপর চুপিচুপি তার এক নাচু ভাইয়ের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা ধার নেয়। বাকিটা কোনো কিস্তির টাকা ঘুরিয়ে ম্যানেজ করে। কাউকে কিছু না জানিয়ে, এক রাতের ফ্লাইটে পাড়ি জমাতে চায় সৌদি।


কেউ জানত না—শুধু জানত তার চাচাতো ভাই রায়হান। ফ্লাইটের ঠিক আগের দিন রায়হান ফোন করে জানায়,

— “নাজিম তো সৌদি চলে যাচ্ছে আজ রাতে।”


বাবা তখন ছুটে যান, বলেন,

— একটু এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যেতে দে। শেষবারের মতো একসাথে যাই।


নাজিম মুখ ফিরিয়ে বলে,

— রাত বারোটার ফ্লাইট, তুমি কি করবে সেখানে? তুমার যাওয়া লাগবে না।


সেই মুহূর্তে বাবার ভেতরে যেন কিচ্ছু রইল না। বুকের সবটুকু ভালোবাসা, আশা, প্রত্যাশা এক মুহূর্তে গলে গেল। কিন্তু রায়হান ভাই জোর করেই বাবাকে নিয়ে যায়। হয়তো সেটাই ছিল শেষ দেখা।


সৌদি গিয়ে এক বছর কাটিয়ে দেয় নাজিম। ঋণ রয়ে যায় দেশে, মানুষের কাছে দেনা—কিন্তু কোনো উত্তরদায়িত্ব ছাড়া হঠাৎ করেই সে ফিরে আসে। ফেরা মানেই কি ফিরে পাওয়া? নাজিম আর যোগাযোগ করে না, মাকে না, বাবাকেও না।


তারপর থেকে তারা আর মুখ দেখাদেখি করে না ফোন করেও বাবার সাথে একদিও কথা বলেনি। এক বছর বাদে, হঠাৎ করেই, কাউকে কিছু না বলে নাজিম ফিরে আসে। প্রচুর ঋণ মাথায়, সেই ঋণের বোঝা সে ফেলে রেখে চলে আসে। এখনো মা-বাবার সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই তার। বছর বছর কেটে যায়, অথচ সে একটিবারও ফোন করে না, খবর নেয় না।

,মা এখনো মাঝে মাঝে বলেন,

— আমি চাই না, নাজিম যেন আমার মুখ দেখতে পারে।  আমি মারা গেলে ও যেন আমার লাশ পর্যন্ত না ছুঁয়।

নাজিম 


কোম্পানি থেকে নাজিম ভাইয়ের রহস্যময় বিদায়, কারও জানা নেই গন্তব্য!

গ্রামের একটি সাদাসিধে পরিবারে বাবা-মা, 4 জন ভাই-বোন, আর বড় ভাই নাজিম ছিলেন। নাজিম ছিল পরিবারের 3 নম্বর ছেলে, তাই তার উপরই ছিল সবাইকে আগলে রাখার কিছুটা দায়িত্ব। সে অনেক কষ্ট তাকে বের করে নাজিমকে সৌদি আরবে কাজের জন্যে গিয়ে ছিলেন, আর ভেবেছিলেন, নাজিম একদিন সবার মুখ উজ্জ্বল করবে।কিন্তু নাজিম এর মনের মধ্যে কী চলছে, সেটা কেউ বুঝতে পারেনি। সৌদি আরবে গিয়ে নাজিম বড় ব্যবসা করার স্বপ্নে ডুবে যায়। টাকা জোগাড় করার জন্য সে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, এমনকি গ্রামের প

পারা প্রতিবেশীর কাছ থেকেও ঋণ নিতে থাকে। কিছুদিন পর হঠাৎ করেই খবর আসে— নাজিম সৌদি থেকে কাউকে না বলে চলে আসে। এক মাস পর শহর থেকে গ্রামে লোকজন আসতে শুরু করে। সবাই একটাই কথা বলছে, "আপনার ছেলে নাজিম আমাদের থেকে টাকা ধার নিয়েছে। এখন সেই টাকা ফেরত দিন।"গ্রামের দরজায় এসে লোকজন যখন চিৎকার করতে থাকে, তখন নাজিম এর বাবা-মা লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে থাকতেন। নাজিমের ভাই “আমি” আর বোন সুমাইয়া ছিল তখনো বাড়িতেই থাকতো। রাস্তা ঘাটে গেলেই বন্ধুরা বলত, "তোমাদের ভাই নাকি সৌদি থেকে পালিয়ে এসেছে ।"সেম বাবা মা কেউ লোকে বলতো

বাবা ছিলেন বয়স্ক মানুষ, তবু নিজের জমি বিক্রি করে ঋণের কিছু টাকা শোধ করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু ঋণের অঙ্ক এত বড় ছিল যে, জমি বিক্রি করেও কিছুই হলো না। মা সারাদিন কাঁদতেন আর বলতেন, "আমাদের এত বিশ্বাস, এত ভালোবাসা, সবকিছু ভুলে সে কীভাবে আমাদের সঙ্গে এই বেইমানি করল?"

একদিন আমি মায়ের কাছে ফোন করে বলল, "মা, আমি ও ছেড়ে কাজ করব। বাবাকে আর এই কষ্ট করতে দেব না।" মায়ের চোখে তখন কেবল দুঃখ আর অসহায়ত্ব।বড় ভাইয়ের এই বেইমানি শুধু তাদের অর্থনৈতিক সংকটেই ফেলেনি, বরং মানসিকভাবে পুরো পরিবারকে ভেঙে দিয়েছিল। সমাজের সামনে তারা মুখ দেখানোর সাহস হারিয়েছিল। তবে কষ্ট আর লড়াইয়ের মধ্যেও পরিবারটি একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করছিল, কারণ তারা জানত, একমাত্র ঐক্যই তাদের টিকে থাকার শক্তি।

কল রেকর্ড 


এই ঘটনা টা কেবল আমাদের পরিবারের নয়, এটা আমাদের সমাজের জন্য একটা বড় শিক্ষা-2পরিবার থেকে যদি একজন মানুষ ভুল পথে যায়, তার প্রভাব কেবল তার নয়, পুরো পরিবারের জীবনকে নড়বড়ে করে দেয়। তাই দায়িত্বশীল হওয়া আর নিজের সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করার শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।_ নাজিম এর সাথে আমি কি সমস্যা কি করেছি? 2 টা মেসেঞ্জার id,হোয়াটসঅ্যাপ,ইমো,টেলিগ্রাম,সিম নাম্বার, সব জায়গাতেই ব্লক করেছে কিন্ত কেন? আমি কে? 👉 👇 https://drive.google.com/file/d/1LY3QUXGe-3juxt_Ict_9GDqUAkANiQqM/view?usp=drivesdk

[1] [2] to 

https://masumbillah171.blogspot.com/2025/05/blog-post_70.htm l


নাসিরের ভয়ংকর রূপ

অপমানের সেই দিন 

টাকার আনন্দটাই হারিয়ে গেছে


No comments:

Post a Comment