প্রতিবছর প্রায় 20 লক্ষ মুসলমান সৌদি আরবে হজে যায় আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন আসে না সৌদি আরব যেটা কিনা মুসলমানদের জন্য এতটা পবিত্র একটা জায়গা আল্লাহর ঘর এখানে অবস্থিত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মস্থান এখানে সব মিলায়া যেখানে সৌদি আরবের উচিত ছিল পুরা বিশ্বের মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করা কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন মুসলমানদের পক্ষে আওয়াজ তোলার প্রশ্ন আসে তখন অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি আরব কেন চুপ মেরে বসে থাকে। এইটাকে হিপোক্রেসি বলেন, কাপুলসতা বলেন, বিভিন্ন সময়ে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন কিংবা সুদানের মতন মুসলিম দেশের বিরোধিতা করার মাধ্যমে কিংবা ইসরাইলের মতন আমাদের ফিলিস্তিনি মুসলিম ভাইদের বিরোধী শক্তিকে সাপোর্ট দেওয়ার মাধ্যমে হোক, সৌদি আরব এই হিপোক্রেসি দেখাইছে। বড় ভাই আমেরিকার প্রতি সাপোর্টকে সৌদি আরব এমন লেভেলে নিয়ে গেছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পও এখন কনফিডেন্টলি বলেন আব্রাহাম অ্যাকর্ড যেটা কিনা ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক নরমাল করার একটা চুক্তি সেইটাই নাকি সৌদি আরব জয়েন করবে সৌদি আরবের মতন একটা দেশ যেখানে মানুষ হজ করতে যায় তারা যদি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া দেয় সেটা কতটা বাজে হয় একবার চিন্তা করেন আর হজকে কেন্দ্র করে। তারা বিশাল একটা রমরমা ক্যাপিটালিস্ট মার্কেট তৈরি করে ফেলছে কাবা ঘরের এর একদম সামনের দিকের হোটেলগুলাতে এক রাত থাকতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে 300 থেকে 400 ডলার মানে 30 থেকে 40 হাজার টাকার মত আর কাবা ঘর থেকে যত দূরের হোটেলে থাকবেন তত কম ভাড়ায় আপনি পাবেন এই 30-40 হাজার টাকা দিয়ে এক রাত থাকবে এরকম সাধ্য কয়জন হাজির আছে আল্লাহর ঘরের সামনে থাকা নিয়ে এইখানেও ধনী আর গরীবের মধ্যে একটা বিভেদ তৈরি হয়ে যাইতেছে না সিজন বুইঝা মক্কার হোটেলের ভাড়া অনেক গুণ বাড়ায়া ফেলা হয় আমরা এই সম্পর্কে রিসেন্টলি হজ করা অনেকজনহাজীর সাথেই কথা বলছি। ইভেন সৌদি আরবে থাকা অনেক প্রবাসী বলতেছেন গত কয়েক বছরে ফলমূল কিংবা চায়ের মতন জিনিস অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি সরকার ভরতুকি কমায় দিছে। যেটার পিছনে মূলত তাদের ক্যাপিটালিস্ট মাইন্ডসেটটা দায়ী। আগে যেই চা এক থেকে দুই রিয়ালে পাওয়া যাইতো, মূল্যস্ফীতি বাদ দিলেও, এখন দুই থেকে তিন বছরের ব্যবধানে সেই চা পাঁচ থেকে ছয় রিয়ালে যে পাওয়া যায়, এতগুণ দাম বৃদ্ধিকে আপনি কিভাবে জাস্টিফাই করবেন? অনেক ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্ট হজ নিয়ে সৌদির এই ব্যবসাকে হোলি বিজনেস এই নামে আখ্যায়িত করছেন। লিবিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি সাদিক আর ঘারিয়ানীতো 2019 সালে দ্বিতীয়বার হজ করাকে গুনাহের শামিল বলেও আখ্যায়িত করছিলেন কারণ তার মতে এই টাকা দিয়ে সৌদি সরকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্রাইম করে থাকে। সব মিলায়ে কি এইটা মনে হয় না সৌদি আরবের পুরা পবিত্রতার আড়ালে আসলে একটা অন্ধকার রাজনীতি লুকায় আছে তা না হলে তারা কেন মুসলিম ভাইদের পক্ষে মুসলিম অত্যাচারিত দেশগুলার পক্ষে দাঁড়াইতে পারে না সৌদি রাজনীতির এই সবগুলো বিষয় নিয়ে আমি আজকের ভিডিওতে আলোচনা করব তো চলুন শুরু করা যাক একটা জিনিস বলি ভিডিওটা ধর্মীয় বিষয়ে খুবই সেনসিটিভ জিনিস কোন ধর্মীয় মতামত আমি ব্যক্তি এনায়েদ চৌধুরী হিসেবে এনডোর্স করে এই ভিডিওতে বলতেছি না আমি শুধু উদাহরণ হিসেবে ঘটনাগুলোকে তুলে ধরলাম যেমনটা লিবিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি সাদিক আর ঘারিয়ানীর মতামত। প্রথমে চলেন দেখি পুরা বিশ্বের পার্সপেক্টিভে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পার্সপেক্টিভ থেকে সৌদি আরবের অবস্থানটা আসলে কোন জায়গায়। সৌদি আরব পুরা বিশ্বের একটা প্রভাবশালী শক্তি হওয়ার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে তাদের তেল। দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারী দেশ হচ্ছে সৌদি আরব। পুরা বিশ্বের যত তেল রপ্তানি হয় তার 16% রপ্তানি করে এই সৌদি আরব। সেকেন্ড পজিশনে।যারা আছে নাম রাশিয়া। 9% এর মতন তেল ওরা রপ্তানি করে চিন্তা করেন সৌদি আরবের প্রায় অর্ধেক সৌদি আরব কত বেশি তেল রপ্তানি করে একবার ভাইরা দেখেন শুধুমাত্র এইটা তাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখতেছে এমন না রাজনৈতিকভাবে সামরিকভাবেও তাদেরকে শক্তিশালী করতেছে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটা সংগঠন যেটা ওপেক বিশ্ববাজারে যারা জ্বালালি তেলের দাম আর উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে ওদের নেতৃত্বে থাকে সৌদি আরব ওপেক গঠন করা হয় 1960 সালে এবং বলতে পারেন তখন থেকেই সৌদি আরব এটার নেতৃস্থান পর্যায়ে আছে। এইটার মানে হইতেছে বিশ্ববাজারে তেলের যে দাম সেটা যেকোনো। সময়ে বাড়ানো কিংবা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে ফ্লেক্সিবিলিটি এইটা সৌদি আরবের হাতে আছে। আর এই তেলের কারণেই আমেরিকার সাথে সৌদি আরবের এতটা ভালো সম্পর্ক। ইউএসএ যে বিশাল সামরিক খাত, জ্বালানি খাত, শিল্প খাত কিংবা পরিবহন খাত আছে, গাড়িটারি আছে, এই সবকিছু মিলে তাদের প্রচুর পরিমাণ তেলের দরকার হয়। খেয়াল রাখবেন ইউএসএ কিন্তু পুরা বিশ্বের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করা দেশ সৌদি আরব করে সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানি পুরা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করে আমেরিকা এত তেল উৎপাদন করার পরেও সৌদি আরব থেকে তারা 7%।এর মতন ক্রুড অয়েল আমদানি করে থাকে বুঝেন আমেরিকার তেলের চাহিদা কত বেশি আমেরিকায় পুরা শহরের ডিজাইন এমনভাবে করা গাড়ি ছাড়া আপনি চলতেই পারবেন না আর এই গাড়ির বেশিরভাগই চলে তেলের মাধ্যমে অন্যদিকে ইউএসএ যেসব সামরিক সরঞ্জাম আর্মস বানাইতেছে এইটার সবচেয়ে বড় কাস্টমার বা খরিদ্বারদার হচ্ছে সৌদি আরব। এই কয়দিন আগেই সৌদির সাথে 142 বিলিয়ন ডলারের আর্মস ডিল করছে ইউএস যেটা কিনা একটা রেকর্ড এইটাকে বলা হইতেছে ওয়াশিংটনের করা সবচেয়ে বড় ডিফেন্স কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট। আমি যখন এই ভিডিওটা বানাইতেছি ট্রাম্প তখন সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব। আমিরাত ভিজিট করতেছেন আমেরিকা সৌদি আরবকে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে? এই সামরিক খাত তার একটা বড় কারণ। যদি আপনি মধ্যপ্রাচ্যের পার্সপেক্টিভ থেকে দেখেন, সৌদি আরব চায় এই অঞ্চলের মধ্যে নিজেদেরকে এক নাম্বার নেতৃত্বের পর্যায়ে যাতে নিয়ে আসতে পারে। আর এইখানে তাদের সবচেয়ে বড় বাধার নাম হচ্ছে ইরান। এই ইরানকে টেক্কা দেওয়ার জন্যই সৌদি আরব অনেক সময়ই এই অঞ্চলের অন্যান্য মুসলিম দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে তাদেরকে বাধা দেয় যেমন 2017 সালে সৌদি আরব এবং তার বন্ধু রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত বাহরাইন ওরা মিলে।।কাতারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক অবরোধ দেয় তাদের মতে কাতার বিভিন্ন আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপকে টাকাপয়সা এইসব দিয়ে সাহায্য করে থাকে এটা আসলে কাদের ইশারায় করা হয়েছে আপনারা আশা করি বুঝতেছেন ইউএসএ বা আমেরিকা ট্রাম্পেরই এই টুইট থেকেও এটা ক্লিয়ার। আরেকটা উদাহরণ দেওয়া যায় যেখানে সৌদি আরব অন্য একটা মুসলিম দেশের গৃহ সংঘাতে জড়ায় পড়ছিল। সেটা হচ্ছে 2015 সাল থেকে চলা ইয়েমেন সংঘাত। ইয়েমেন বলেন ইরান বলেন এখানে শিয়া বনাম সুন্নি একটা গ্যাঞ্জাম তো আছেই। ইরান ইয়েমেন এখানে অনেক শিয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে। এদিকে সৌদি আরব একটা,সুন্নি প্রধান জনগোষ্ঠীর দেশ। যাইহোক 2015 সালে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন একটা সামরিক জোট ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলা শুরু করে। হুথি গোষ্ঠী শিয়া মতবাদ অনুসরণ করে। আর ইরান হচ্ছে তাদের পৃষ্ঠপোষক। সৌদি আরব তাই এটাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একটা হুমকি মনে করতেছে। ফলে একটা মুসলিম দেশের গৃহ সংঘাতে জড়ায় পড়ার কারণে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ কিন্তু নিহত হয় এবং ইয়েমেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটাতে পরিণত হয়। বুঝতেই পারতেছেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় সৌদি আরব মিন মিন করে। আর এই দিকে মুসলিম ভাইদের।দেশের রাজনীতিতে যাইয়া আবার হস্তক্ষেপ করে। তারা আবার আঞ্চলিক আর বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ায় নেওয়ার জন্য ভিশন 2030 এর পিছনে উইঠা পইড়া লাগছে এইটা হইতেছে মূলত সৌদি আরব অনেক বেশি ডিপেন্ডেন্ট ওদের তেলের উপরে ওরা শুধু তেলের উপরে নির্ভরশীল থাকতে চায় না ওদের অর্থনীতিটাকে ওরা বহুমাত্রিক করতে চায় এইটা বাদশাহ সালমানের একটা ভিশন যেটা বলা যায় উনি 2016 সাল থেকে শুরু করছিলেন এই যে সৌদি আরব তাদের ফুটবল লীগে রোনালদো বেনজেমা এইরকম মানের মত এত দামি দামি প্লেয়ার আনছে এইটাও এই প্ল্যান এর অংশ তারা স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি করে এইটাকেও।একটা টাকা পয়সা আয় করার সেক্টর বানাইতে চায়। এছাড়া তারা বানাইতেছে নিয়ম সিটি। যেটা কিনা সৌদি আরবের একটা উচ্চ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব স্মার্ট মেগা সিটি নির্মাণ প্রকল্প সবকিছুতেই তারা নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট সেট করে রাখছে যেটা ওরা 2030 সালের মধ্যে এচিভ করতে চায়। আর এইখানেই চলে আসে হজ নিয়ে যেই ব্যবসাটা সেইটার কথা। হজকে কেন্দ্র করে পুরা ব্যবসার যে ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে এটা ফেয়ার নাকি আনফেয়ার আপনার বিবেচনার উপরে আমি ছাইড়া দিলাম। তবে এইখানে সৌদি আরব বা সৌদি সরকারের যে একটা বিশাল স্টেক আছে এইটা।একটা টাকা পয়সা আয় করার সেক্টর বানাইতে চায়। এছাড়া তারা বানাইতেছে নিয়ম সিটি। যেটা কিনা সৌদি আরবের একটা উচ্চ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব স্মার্ট মেগা সিটি নির্মাণ প্রকল্প সবকিছুতেই তারা নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট সেট করে রাখছে যেটা ওরা 2030 সালের মধ্যে এচিভ করতে চায়। আর এইখানেই চলে আসে হজ নিয়ে যেই ব্যবসাটা সেইটার কথা। হজকে কেন্দ্র করে পুরা ব্যবসার যে ইকোসিস্টেম গড়ে উঠছে এটা ফেয়ার নাকি আনফেয়ার আপনার বিবেচনার উপরে আমি ছাইড়া দিলাম। তবে এইখানে সৌদি আরব বা সৌদি সরকারের যে একটা বিশাল স্টেক আছে এইটা জেনারেট করে। শুধুমাত্র এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে তেল ছাড়া অন্য যে নন অয়েল ইন্ডাস্ট্রি আছে সেই নন অয়েল জিডিপির 20%ই সৌদি আরবের আসে এই হজ থেকে যেটা কিনা প্রতিবছর বাড়তেই আছে বাড়তেই থাকবে। সৌদি সরকারের এই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অনেক বড় একটা ভিশন হইতেছে 2030 এর মধ্যে হজ আর উমরা মিলায়ে 30 মিলিয়ন মানুষকে প্রতিবছর নিয়ে আসা এবং তাদের টার্গেট 2032 এর মধ্যে এটাকে 350 বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করা 350 বিলিয়ন ডলার মানে বুঝতেছেন বাংলাদেশের টোটাল জিডিপি কিন্তু 400 বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি নিউজিল্যান্ড গ্রিসের মতন দেশের বর্তমান ।জিডিপি 250 বিলিয়ন ডলারের মতো সেইটা থেকেও আরো 100 বিলিয়ন ডলার বেশি আনার চিন্তা করতেছে সৌদি সরকার। এই হজ থেকেই সৌদি আরবের মক্কা আর মদিনা মিলায় বর্তমানে 2000 এর মত হোটেল আছে। যেখানে 3 লক্ষ 84,500র মত হোটেল রুম আছে। এর মধ্যে মক্কাতেই 1300র বেশি হোটেল। যেটা কিনা সৌদির রাজধানী রিয়াদের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। এর মধ্যে আছে ম্যারিয়ট। হায়াতের মতন কোম্পানির হোটেল। এইসব হোটেলে কিন্তু আপনি আমি থাকতে পারব না। ম্যারিয়ট বা হায়াতের মতন হোটেল গুলায় এক রাত থাকতে গেলে আপনাকে খরচ করতে হবে 150 থেকে 250 ডলার। কাবা ঘরের একদম কাছাকাছি যে।হোটেলগুলা তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রেফেলস মাক্কা প্লেস। এইখানে থাকতে হলে আপনাকে এক রাতের জন্য খরচ করতে হবে কমপক্ষে 400 ডলার। ফেয়ারমন্ট মাক্কা ক্লক রয়াল টাওয়ার বা সুইশ অটোল আল মাকাম। এইখানে থাকতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে কমপক্ষে 300 ডলার। আর হোটেল থেকে সরাসরি কাবার ভিউ যদি পাইতে চান ঐখানে তো আরো খরচ করা লাগবে। আমার আপনার এই সাধ্য হয়তো হবে না। প্রতিবছর প্রায় দুই মিলিয়ন হাজী সৌদি আরবে যে হজ করতে আসে তাদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত মুসলিম। তারা যেহেতু এসব হোটেলে থাকতে পারবে না। এইগুলো আসলে।।বানানো হইতেছে কাদের জন্য? হজ পালন হইতেছে ঠিকই। কিন্তু তার পাশেই তৈরি হইতেছে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের হসপিটালিটি মার্কেট যার মূল টার্গেট হচ্ছে ভিআইপি হজ যাত্রী ধনী পর্যটক। আর কর্পোরেট প্যাকেজের মানুষজন এইটা শুধু আমার কথা না মক্কার স্থানীয় মানুষরাও এই ব্যাপারে এগ্রি করেন এই আর্টিকেলটা আপনারা দেখতে পারেন যদিও এটা 2013 সালের আর্টিকেল তবেও এইখানে কিছু অপ্রিয় সত্য তুলে ধরা হয়েছে মক্কায় ক্লক টাওয়ার যেটা আছে সেটাই হইতেছে ধনী গরীবের মধ্যে বিভেদের একটা সিম্বল এই টাওয়ারটা দাঁড়ায়ে আছে এক সময়কার অটোম্যান দুর্গ ভেঙে ফেলে তৈরি করা জমিতে।যার মালিকানা দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় এবং প্রভাবশালী কনস্ট্রাকশন কোম্পানি সাউদি বিন লাদেন গ্রুপকে অনেকের এর মতে এই কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কাছে বলতে গেলে মক্কাটাকেই বেঁচে দেওয়া হইছে। যাই হোক জায়গাটা তারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লিজ নিছে। কেউ বলেন 20 বছর, কেউ বলেন 30 বা 40 বছরের জন্য। পরে একটা নির্দিষ্ট অর্থ তারা সরকারকে দিবে। যেটা মসজিদের সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে। কিন্তু লোকালদের অনেকের মতেই পুরা সিস্টেমটা রবিনহুডের মতন শোনাইলেও গরীবদের জন্য আসলে কিছু যায় না। সব অর্থ আবার ফেরত যায় ব্যবসায়ী আর পেট্রো।।মনার্ল্টদের পকেটে। মক্কার সাধারণ মানুষ এই ক্লক টাওয়ারকে ওয়াকফুলিল হারামাইন সারেফাইন অর্থাৎ দুই পবিত্র মসজিদের জন্য ওয়াকফো হিসেবে উপস্থাপন করতে দেখে এবং এটাকে এক ধরনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা দেখতে পান। তবে বাস্তবে এটা কেমন যেন ইসলামকে কর্পোরেট সেক্টরে ব্যবহার করার একটা প্রয়াস। সেখানে আধ্যাত্মিকতা, ইতিহাস কিংবা সামাজিক ন্যায়ের জায়গাটাই যেন অনেকটা হারায়ে যাইতেছে। এইটা তো বললাম শুধু হোটেল বিজনেসের কথা। আপনি খেজুর বলেন, জমজমের পানি বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় পণ্য, জুয়েলারিস সব মিলায় একটা বিশাল বিজনেস হাব হয়ে উঠছে এই শহরটা।হজকে কেন্দ্র করে সৌদি সরকার বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন হোটেল, মল, গাইডিং সার্ভিস, কনস্ট্রাকশন টেন্ডার দিতেছে। হজ পালন এখন শুধু আত্মার শুদ্ধি না বরং কখনো কখনো সেটা হয়ে যায় ধনীদের একটা শো। একরকম ধর্মীয় ছুটির মতো একটা সিম্বলিক প্রেস্টিজ। অনেক এক্সপার্টের মতে হজ একসময় এমন একটা পর্যায়ে চলে যেতে পারে যেখানে এইটা আর আত্মিক সাধনার জায়গা থাকবে না বরং এটা হয়ে যাবে এক ধরনের ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ইভেন্ট মানুষ আত্মার শুদ্ধির জন্য যাবে না বরং কার কত টাকা আছে অর্থ ক্ষমতা আছে নিজের স্ট্যাটাস শো করার।জন্য কে কতবার হজ আর ওমরা করছে এইটা দেখানোর জন্য মানুষ হজ করতে আসবে নরক নৃবিজ্ঞানী আব্দুল্লাহ হাম্মউদ বলতেছেন মক্কার এই রূপান্তরটা এখন সাবলাইম আর সিনেম্যাটিকের মাঝামাঝি একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে মানে একদিকে স্রষ্টার সাথে একটা স্পিরিচুয়াল কানেকশন, অন্যদিকে লোক দেখানো সিনেমা। এই দুইটার মাঝামাঝি অবস্থান দিয়েছেন তিনি। কেউ কেউ বলছেন মক্কা এখন একরকম ডিজনিল্যান্ড লাস ভেগাস কম্বোতে পরিণত হয়েছে। যেখানে ধনীরা তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন শো করতে আসে। সৌদি সরকারের ভিশন 2030 এর মধ্যে স্পষ্টতই বলা আছে তারা হজ্ আর ওমরা সফরকেও লাভজনক।।টুরিজম প্রোডাক্ট বানাইতে চায়। ইবাদতের শহর এখন হয়ে উঠছে ব্যবসার রাজধানী। এর মধ্যে আবার আছে সৌদি সরকারের টাইট কন্ট্রোল হজের জন্য একটা নির্ধারিত কোটা সংখ্যা আছে যেটা নির্ধারণ করা হয় সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয় যারা হজ প্যাকেজ বিক্রি করে এই প্যাকেজের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মধ্যসত্বভোগীদের কমিশন যুক্ত হয় অনেক সময় ভিসা না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে কোথাও কোথাও প্রতারণাও হয় ফ্লাইটের দাম কমলেও দেখা যায় পুরা প্যাকেজের দাম কমে না বরং অনেক সময় তা আরো বাড়ে আমি মানতেছি ইসলামে বলা হয়েছে।।হজ করার সামর্থ্য না হইলে হজ করতেই হবে। ব্যাপারটা এরকম না। কিন্তু এই যে একটা ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। হজ করার জন্য খরচ প্রতিবছরই যে বাড়তেছে এবং সেটা মূল্যস্ফীতি বাদ দিলেও যেই কারণে অনেক মুসলিমই তাদের শত আকাঙ্ক্ষিত কাবাকে একটা বারের জন্য জীবনে দেখতে পারতেছেন না? এই ব্যাপারটাকে কি আপনি অনেকটা ফ্রাস্ট্রেটিং বা হতাশাজনক বলবেন না? আমি বলতেছিনা সৌদি সরকার হাজীদের জন্য সবকিছুই নেগেটিভ করতেছে। ডেফিনেটলি সরকার হজ যাত্রীদের জন্য অনেক কিছু সহজ করছে। মিনার মত জায়গায় ইলেকট্রিক ট্রেন, আধুনিক রাস্তা, শত শত পরিষ্কার টয়লেট, নিরাপত্তা,ব্যবস্থাও তারা উন্নত করছে। ফ্রিতে পানি দিতেছে। তারা চাইতেছে হজকে সুপরিকল্পিত, সুসজ্জিত করতে। কিন্তু কথা হইতেছে ইবাদত আর ব্যবসা, আত্মশুদ্ধি আর বিলাসিতা এইসবের মাঝে যে জটিল ভারসাম্য টানতে হয় সেইটাকে আসলেই রক্ষা করতে পারতেছে সৌদি সরকার। এমনকি হজকে তারা অনেক সময় কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করে। সৌদি আরবের মতাদর্শী বিরোধী যেসব মুসলিম দেশ আছে তাদের হাজীদের কোটা কমায় দেয়া তাদেরকে শাস্তি দেয়। অথচ তারাও কিন্তু মুসলিম তাদেরও আল্লাহর ঘর দেখার সমান অধিকার আছে। তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়া এটার শিকার হইছে। তার মানে হজ।এখন শুধুমাত্র ধর্মীয় আনুগত্যই না বরং সৌদির ভূ রাজনৈতিক স্বার্থের একটা প্রতিচ্ছবিও বটে। ওভারঅল সামারি যদি করি আপনার কি আলোচনা থেকে মনে হইতেছে না? পুরা মুসলিম বিশ্বের নেতা হইতে চাওয়া এই সৌদি আরব ধর্মের সাথে রাজনীতি আর ব্যবসাকে মিলায়ে ফেলতেছে। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটা কতটা ফেয়ার কমপক্ষে মুসলিম ভাইদের পক্ষে তারা একটা দায়িত্ব নিবে এতটুকু তো আমরা এক্সপেক্ট তাদের কাছ থেকে করতেই পারি। আজকের ভিডিও এখানেই শেষ। আপনার যদি এই ধরনের কন্টেন্ট গুলো ভালো লাগে আপনি চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন এবং পাশে থাকা বেল আইকনটা প্রেস।এখন শুধুমাত্র ধর্মীয় আনুগত্যই না বরং সৌদির ভূ রাজনৈতিক স্বার্থের একটা প্রতিচ্ছবিও বটে। ওভারঅল সামারি যদি করি আপনার কি আলোচনা থেকে মনে হইতেছে না? পুরা মুসলিম বিশ্বের নেতা হইতে চাওয়া এই সৌদি আরব ধর্মের সাথে রাজনীতি আর ব্যবসাকে মিলায়ে ফেলতেছে। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটা কতটা ফেয়ার কমপক্ষে মুসলিম ভাইদের পক্ষে তারা একটা দায়িত্ব নিবে এতটুকু তো আমরা এক্সপেক্ট তাদের কাছ থেকে করতেই পারি। আজকের ভিডিও এখানেই শেষ। আপনার যদি এই ধরনের কন্টেন্ট গুলো ভালো লাগে আপনি চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন এবং পাশে থাকা বেল আইকনটা প্রেসMuhammad Masum Billah
My Journey Through Life" – A Diary of Emotions Welcome! 🌟 This is where life’s many shades come alive—sometimes laughter, sometimes tears, and sometimes the search for lost memories. "Cholar pothe Amar golp" is a collection of my personal experiences, emotional moments, and untold stories from society. Every story is written with deep care, so you might find a piece of your own life here. . Why This Website? Real Stories: Emotional, inspirational, and thought-provoking tales from real life.
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
-
নাজিম বাড়িতে আসার আগের দিন আমি যদি মারা যাইতাম আল্লাহ্।আমি মারা গেলে আমার লাশ টা যেন দেখতে না পারে,,নাজিম নাজিম ছোটবেলা থেকেই একটু অন্যরকম।...
-
আজকে আপনি যদি উধাহরন বা পরিস্থিতির দিকে শান্ত হন, তাহলে আপানি উদাহারণ নিতে পারেন বিশ্ব সেরা উন্নত দেশ আমেরিকা এবং ইউরোতে বসবাস স্থানীয়দের ...
-
আমার ফোনের গ্যালারিতে শত শত মানুষের ছবি। কেউ বন্ধু, কেউ অচেনা, আবার কারো নামই মনে নেই। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আসা মানেই ফোনে সেভ হয়ে যায়,...
No comments:
Post a Comment